দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে চীন নতি স্বীকার করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বেইজিং বরাবরই একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যকে দুই দেশের নিজস্ব বিষয় বলে মনে করছে।
চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ কিনে থাকে। এর বড় একটি অংশ যায় চীনের ছোট আকারের তেল শোধনাগারে, যেগুলো ‘টিপট’ নামে পরিচিত। এসব তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এমন একটি জাহাজভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে তেলের প্রকৃত উৎস আড়াল করা সম্ভব।
তবে ইরানি তেলের ওপর চীন অতিমাত্রায় নির্ভরশীল নয়। ফলে ওয়াশিংটন যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করলে তাত্ত্বিকভাবে বেইজিং ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে পারে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য বড় রাজনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে চীন নতি স্বীকার করছে বা বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—এমন বার্তা দিতে চায় না বেইজিং। চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন—দুই ক্ষেত্রেই এমন নজির ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে শির সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি চলছে। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মার্কিন বিধিনিষেধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশকে পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের চাপও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলছে।
তবে এসব উত্তেজনা শির সফরকে বাধাগ্রস্ত করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই। ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য চীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের সরবরাহ অব্যাহত রাখা। অন্যদিকে বেইজিং চায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সমঝোতা বজায় থাকুক এবং শুল্কের হার কম রাখা হোক।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/